Posts

Showing posts from December, 2018

অফ্ রুট (৪)

Image
১০ - ১১ নভেম্বর ২০১৮ 'হাট্টা'তে এসে গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছি। বিক্রম আর পুষ্পা চলে গেছে অনেক আগেই। তবে শেয়ার গাড়ির দেখা নেই। আকাশ পরিষ্কার ।  চরম রোদ। সূর্য মাথার সাথে ০° । তাই মাফলার রূপ নিল পাগড়ির, চোখে চড়িয়ে নিলাম সানগ্লাস। আমার পাশে ব্যাগ, দোতারা আর লাঠি। কিছু মানুষ আমার দিকে কেমন ভাবে তাকাচ্ছিল আর চলে যাচ্ছিল। বোধহয় উগ্ৰপন্থী ভাবছে। আমার বেশভুষা দেখে। আমি ও 'ডোনট্ কেয়ার' ভাব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু গাড়ি আর আসে না। 'হাট্টা' পুরো চুপচাপ। দূর থেকে হালকা গান ভেসে আসছে। কোথাও কোনো অনুষ্ঠান চলছে বোঝা যাচ্ছে। আর দাঁড়াতে না পেরে বসে পরলাম রাস্তার পাশে একটা উঁচু জায়গায়। দোতারা টা তুলে নিলাম। সময়তো কাটাতে হবে.......।  বাজালাম সেই সুর যা 'ফোকটে' তে শুনেছিলাম  'নিরা জাইলে রিসাওনি..........'। গ্ৰামের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়ছে সুর। একে একে পুরো গ্ৰাম থেকে বেরিয়ে এলো লোকজন। ছোট থেকে বুড়ো। আমাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে গেল সবাই। বাজানো শেষ। আমি হতবাক। সবার বিভিন্ন প্রশ্ন আমার কাছে। কোথা থেকে এলাম, কোথায় যাব, এটা কি যন্ত্র.......!...

অফ্ রুট (৩)

Image
৮ - ১০ নভেম্বর ২০১৮ জাউবাড়ি থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার ট্রেক করে পৌঁছে গেলাম গুগল ম্যাপে দেখা সেই আইল্যান্ড এর মতো এলাকায়। 'ফোকটে' (রিথু ফরেস্ট) । বিক্রম নিজেও কখনো আসেনি এই গ্ৰামে। যেন কিছুটা আবিষ্কারের মতো অনুভুতি হচ্ছিল। এই গ্ৰামে কোনো ট্রেকার নাকি আসেনা।  বিক্রম আমি দুজনে মিলেই থাকার যায়গা খুঁজছি। সারা গ্ৰাম জুড়ে উৎসবের আমেজ। এখানে ও লক্ষ্মী পূজো হয়েছে গতকাল। তার স্পষ্ট প্রমাণ পাচ্ছি বাড়ি গুলোর দরজা-জানালায়। পাহাড়ের গায়ে ধাপে ধাপে এক একটি বাড়ি। এলোমেলো সরু রাস্তা প্রত্যেকেটি বাড়িকে যুক্ত করেছে, পাহাড়ের নিজস্ব স্টাইলে। এই গ্ৰামের মূলত জীবিকা চাষ। সারা গ্ৰাম ঘুড়ে আমরা জানতে পারলাম  যে, তেঞ্জিং নামের একজনের বাড়িতে থাকা যাবে। গিয়ে পৌঁছলাম সেই বাড়িতে। বাইরে থেকে শুনতে পাচ্ছি কিছু একটা গান গাইছে অনেকে মিলে।  ঢুকে পরলাম সেখানে। একটি ছেলে গানের একটা করে লাইন গাইছে, আর কিছু বাচ্চার দল ( সবাই ছেলে) তারা দোহার । এটা রিহার্সাল চলছে। আমি মন দিয়ে শুনছিলাম আর দেখছি। ওদিকে বিক্রম তখন তেঞ্জিং ভাইকে নেপালী ভাষায় কিছু একটা বোঝালো। যে ছেলেটি গান গাইছে তার নাম র...

অফ্ রুট (২)

Image
৬ - ৮ নভেম্বর ২০১৮ ব্রেকফাস্ট করে বিদায় জানালাম টংলুকে। যাওয়ার আগে বোতলে জল ভরে নেওয়ার কাজটা যে করতেই হয়। শেষমেশ এগিয়ে গেলাম রাস্তায় চোখ রেখে। ঘাসে জমা শিশির আবার হয়েছে জল। আকাশে কেউ যেন গাঢ় নীল রঙ ছড়িয়ে রেখেছে। রাজু ভাইয়ের 'হোম-স্টে' এর পিছন দিক দিয়ে একটা রাস্তা আছে। কিছুটা এগোলেই 'টুমলিং' গ্ৰাম দেখা যায়। এই রাস্তা টা নেপালের বুগিয়ালের উপর দিয়ে যায়। ঘাসে ঢাকা উঁচু নিচু জমি। মাঝে মাঝে কিছু ঝোঁপ।  এই রাস্তা দিয়ে গেলে, টুমলিং পর্যন্ত গাড়ির রাস্তা টাকে বর্জন করা যায় আর কি।  মিনিট ২০ টুমলিং এলাম । আবার সাথে পেলাম কাঞ্চনজঙ্ঘা। ডানদিকে 'স্লিপিং-বুদ্ধ' কে নিয়ে চলতে লাগলাম গাড়ির রাস্তা ধরে। বিক্রম মাঝে মধ্যেই পুরোনো কিছু হিন্দি গানের দু-চার কলি গেয়ে উঠছে। টুমলিং চেকপোস্ট। সুনসান। তালাবন্ধ অফিস।  ১০০টাকার একটা পাস করাতে হয় 'সিঙ্গালিলা' তে ঢোকার জন্য। সেটা তো আর করতে হলোনা। চেকপোস্ট পার করে , আবার গাড়ির রাস্তাকে বিদায় জানালাম।  আমার অফ্ রুট শুরু। চললাম বাঁ দিকে। জাউবাড়ির উদ্দেশ্যে। আজ আস্তানা সেখানেই। কারণ আজ ও বিক্রমকে বাড়ি যেতে...

অফ্ রুট (১)

Image
৪-৬ নভেম্বর ২০১৮ এটা গল্প নয়, পথ চলা। অনেকেই 'ধত্রে' থেকে 'সান্দাক্ফু' বা ' ফালুট' গিয়ে থাকবেন। আমার পথ চলা এই রুটের- ই একটি 'অফ্ রুট' বরাবর। যাওয়ার কথা ছিল অনেকেরই, কিছু কারণে  যেতে পারেনি কেউ। তাই অগত্যা একাই বেরিয়ে পরলাম 'অফ্ রুট' এর সন্ধানে। ট্রেনের টিকিট পেলাম না, তাই বাসে চেপে পরলাম। সন্ধ্যে ৬টা । এসপ্ল্যানেড থেকে রওনা দিল বাস। দামাল হাতির মতো ছুটে চলতে থাকলো, মহানগর পেরিয়ে। জানলা ভেদ করা হিমেল হাওয়া আর বাসের ভেতরকার অন্ধকার-মাখা নীল আলো, আমাকে ঘুম পাড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু তার আর উপায় কোথায়? বাস যখনই থামে, ঘুম তখনই ভাঙে।  এই নিদ্রা-অনিদ্রা চলতে চলতে, কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি। সেখান থেকে গাড়িতে মিরিক, সুখিয়া হয়ে অবশেষে পৌঁছে গেলাম 'ধত্রে'। আমার অফ্ রুটের প্রথম ধাপ। তখন সন্ধ্যে নামার মুখে। গাড়ি থেকে নামিয়ে নিলাম ব্যাগ আর আমার অফ্ রুটের সঙ্গী বাবার দেওয়া 'দোতারা'। পিছন ফিরতেই দেখি একগাল হাসি নিয়ে দাঁড়িয়ে বিক্রম। ওই রাতটা বিক্রমের বাড়িতেই আশ্রয় পেয়ে গেলাম। সোজা ওদের রান্নাঘরে, চায়ের কাপে চ...